নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে মাছ শিকার

শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ।।

সমুদ্র ও নদ-নদীর সকল প্রকার মাছ শিকারে উপকুলীয় এলাকার জেলেদের বিরত থাকার জন্য সরকারী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হলেও তা মানছে না সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জেলে, মহাজন ও বনরক্ষীরা। অভিযোগ রয়েছে, পুর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন সহ কতিপয় অসাধু কর্মীরা অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করে জেলেদের মহাজনদের সাথে যোগসাজশ করে বনের বিভিন্ন এলাকার অভায়শ্রম গুলোর নানা প্রজাতির মাছ শিকারে সহয়তা করে যাচ্ছে।


খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মাছের প্রজনন সহ সামুদ্রিক মৎস সম্পদ সংরক্ষনের জন্য ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যুন্ত ৬৫ দেশের সমুদ্র সীমায় ইলিশ সহ উপকুলীয় নদ-নদীর সব ধরনের মাছ আহরন নিষিদ্ধ করে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়। কিন্তু এমন কর্মসুচী মানছে না সুন্দরবনের বনরক্ষীরা সহ বন-সংলগ্ন এলাকার জেলেরা।

নাম গোপন রাখার শর্তে, সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির এক সদস্য এবং বন-লাগোয়া সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ী বলেন, অবরোধের খবর জানার পরেও স্থানীয় কিছু মৎস্য ব্যাবসায়ীরা (এসিএফ) স্যার সহ কয়েক জন বনরক্ষীকে মোটা টাকায় ম্যানেজ করে সুন্দরবনের বিভিন্ন অভায়শ্রমের মাছ লুটেতে শুরু করে এবং বনের আহরিত নানা প্রজাতির শত শত মন মাছ রাতারাতি বাগেরহাট, খুলনা , মঠবাড়িয়া পিরোজপুর ও ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে দেয়া হচ্ছে । এ বিষয়ে শরনখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম.এম পারভেজ বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা সহ প্রজন বৃদ্ধির জন্য সমুদ্র সহ উপকুলবর্তী নদ-নদীতে ৬৫ দিন উপকুলীয় এলাকার জেলেরা মাছ আহরন করতে পারবে না।

তবে, বন-বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মাছ শিকারের অনুমতি (পাস-পারমিট) বন্ধ করে দিয়ে জেলেজের বিরত রাখতে পারেন। অপরদিকে, এ বিষয়ে জানতে, (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে, তার সহকর্মী ও শরনখোলা রেঞ্জের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান জানান, নিষেধাজ্ঞা জারী হওয়ার পর নুতন করে কোন পাস দেওয়া হচ্ছে না। অবরোধের আগে জেলেরা যে পাস নিয়েছেন তাদের মধ্যে কিছু জেলে বনে মাছ ধরছে এবং ২-১ দিনের মধ্যে ওই সব জেলে লোকালয়ে ফিরে আসবে। ##

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *