সাড়ে তিন লাখ টাকার কাজ শেষ হয় মাত্র ১৬০ টাকায়!

image_pdfimage_print

পাওয়ার গ্রীড উপকেন্দ্রের মেশিন মেরামতে সাফল্য দেখিয়েছে কুমিল্লায় কর্মরত প্রকৌশলীরা। মেশিনটি মেরামতে সিঙ্গাপুর সাড়ে তিন হাজার ডলার দাবি করে। সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশী প্রকৌশলীরা।
টানা তিন দিন পরিশ্রম করে তারা ১৬০ টাকা ব্যয়ে সচল করেছেন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ডিসি কন্ট্রোল সিস্টেম। এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ার ব্যাপক আলোড়ন তৈরী হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রশংসায় পঞ্চমূখ নেটিজেনরা।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার দেবপুরে অবস্থিত ২৩০/১৩২/১৩৩ (উঃ) গ্রিড উপকেন্দ্রেটি। এই উপকেন্দ্রে থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে সবকটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ উপ কেন্দ্রটি থেকে মাইক্রো কন্ট্রোলার বেইজড, ব্যাটারি চার্জারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। গত ৭ অক্টোবর গ্রিড উপকেন্দ্রের ২২০ ভি ডিসি সিস্টেমটি বিকল হয়ে যায়। এটি ক্রয় করা হয়েছিলো সিঙ্গাপুরের এ ই জি কোম্পানী থেকে।
সিঙ্গাপুরের ওই কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ব্যাটারি মেরামত করতে সাড়ে তিন হাজার ডলার লাগবে। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা। তবে সে প্রস্তাবে রাজি হয় নি কুমিল্লা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানীর প্রকৌশলীরা। তারা নিজেরা টানা তিন দিন ধরে চেষ্টা করেন। অবশেষে ডিসি ২২০ ভি ডিসি সিস্টেমটি সচল করতে সামর্থ্য হন
সিঙ্গাপুরেরর কোম্পানীর উপর নির্ভর না করে এবং সাড়ে তিন হাজার ডলার খরচ কমিয়ে মাত্র ১৬০ টাকায় মেশিনটি সচল করতে পারায় কুমিল্লা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী প্রবীর কান্তি দাশ।
কুমিল্লা পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ মাইক্রো কন্ট্রোলার বেইজড ব্যাটারি চার্জারটি হলো উপকেন্দ্রটির প্রান। গত ৭ অক্টেবর মাইক্রো কন্ট্রোলার বেইজড ব্যাটারি অস্বাভাবিক কাজ করছিলো।
এ পাওয়ার স্টেশন থেকে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। বিকল্প মেশিন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। বিকল হয়ে যাওয়া মেশিনটি কেনা হয়েছিলো সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানী থেকে। আমরা ওই কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাদেরকে সম্ভাব্য কিছু নির্দেশনা দেন। সেভাবে মেশিনটি মেরামত করার চেষ্টা করি। তবুও মেশিনটি সচল করা সম্ভব হয় নি।
প্রত্যেকটা মেশিনের ম্যানুফেকচারিংয়ে লেখা থাকে কিভাবে মেশিনটি পরিচালনা করা হবে। আমাদের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের মেশিনটির যে স্থানে সমস্যা হয় তা কিভাবে মেরামত করতে হবে ম্যানুফেকচারিংয়ে বিষয়টি উল্লেখ ছিলো না। তাই আমরা বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে মেশিনটি মেরামত করতে হবে।
পরে সিঙ্গাপুরের ওই কোম্পানী জানায়, তারা মেশিনটি মেরামত করে দিবে। সে জন্য শুধু মেরামত ফি সাড়ে ৩ হাজার ডলার চেয়েছে। বাংলাদেশী টাকায় যার মূল্য দাড়ায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪শ টাকা।
এছাড়াও যেই প্রকৌশলীরা সিঙ্গাপুর থেকে এদেশে এসে মেশিন ঠিক করে দেবে তাদেরকেও আলাদাভাবে সম্মানী দিতে হবে। সে হিসেবে আরো প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হবে। আমরা রাজি হয়নি। কুমিল্লা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানীর সব প্রকৌশলীরা মিলে টানা তিন দিন গবেষণা – পর্যালোচনা ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাত্র ১৬০ টাকা ব্যয় করে রেজিষ্টার ক্রয় করে মেশিনটি সচল করতে সক্ষম হই। মেরামতের পরে আজ একমাস পাঁচদিন মেশিনটি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে।
কুমিল্লা পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন আরো জানান, মেশিনটি সচল করতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দিন, উপসহকারী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন, উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী একেএম রেজাউল করিম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বশির উদ্দিনসহ উপকেন্দ্রের কারিগরি কর্মচারীদের আন্তরিকতা মূখ্য ভুমিকা পালন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *