সাংবাদিকদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা লুটপাটের সুযোগ করে দিয়ে এমন একটি শ্রেণি তৈরি করে যাতে তাদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। তাই এর সঙ্গে যারা যুক্ত তারা যেন যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। তাদের ভেতরে যেন মানবতা বোধ থাকে। তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করেন।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা ৬০ জেলা সৃষ্টি করে জেলা গভর্নর নিয়োগ দিয়ে প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ক্ষমতাটাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের সেই সম্ভাবনাটা নস্যাৎ হয়ে যায় জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কারা- এ দেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন গণহত্যা চালায়, তারা সেই গণহত্যার সঙ্গে শরিক ছিল। …মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো ভোগ করতে গেলে অপরের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। সমালোচনা সবাই করুক তাতে আপত্তি নেই। এর মাধ্যমে অনেককিছু জানা যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ প্রণয়ন করেছি। গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরির সুরক্ষায় ‘গণমাধ্যম কর্মী চাকরি শর্তাবলী আইন ’ প্রণয়ন করেছি। এটা আগে ছিলো না। এ ছাড়া সম্প্রচার খাতে উন্নয়নে স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হয়েছে। সম্প্রচার আইনও করা হচ্ছে। যাতে করে বাস্তবমুখি কাজ হয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করা সেই হলুদ সাংবাদিকতা যাতে না থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি মাত্র টিভি, রেডিও ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এসে তা বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেয়। ১৯৯৬ সালের আগে কয়টি পত্রিকা ছিলো? এ সরকার ব্যাপকভাবে পত্রিকা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ডিজিটাল করতে গিয়ে অনেক সমালোচনা পেয়েছি। কিন্তু ডিজিটাল করার ফলেই করোনার মধ্যে এখন অনলাইনে সবার সামনে কথা বলছি। ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণেই সবাই এ কার্যক্রমকে অব্যাহতক রাখছে।’

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে যেভাবে রিপোর্ট করেন আমরা বাধা দিইনি। ঠিক স্বাধীনতার পর জাতির পিতাও সেই সুযোগটা দিয়েছিলেন। কারণ তিনিও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *