মোবাইল সেট ব্যতীত টেলিকম ডিভাইস তৈরির নীতিমালা আসছে

image_pdfimage_print

মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট ব্যতীত টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যন্ত্রপাতি মানসম্মতভাবে স্থানীয়ভাবে তৈরি ও রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন’ (বিটিআরসি)।
এ লক্ষ্যে ‘মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট ব্যতীত টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা স্থাপন’ শীর্ষক একটি নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় টেলিকম ডিভাইস তথা ব্যাটারি-চার্জার-হেডফোন থেকে শুরু করে আইওটি ডিভাইস ও অ্যাপস ভিত্তিক ডিভাইস তৈরির কারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু নির্দেশিকা দেয়া হয়েছে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, টেলিযোগাযোগ খাতের দ্রুত প্রসারে টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি প্রতিনিয়তই আমদানি করা হয়ে থাকে। এ প্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট ব্যতীত টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে সংযোজন উৎপাদনসহ দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য স্থানীয়ভাবে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি সংযোজন ও উৎপাদনে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ক্রেতা সাধারণের জন্য কম মূল্যে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, অবৈধ আমদানি হ্রাস করার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি রোধ, কারিগরি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশে কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবল বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা এ নীতিমালার উদ্দেশ্য।
নীতিমালার আওতায় যেসব পণ্য তৈরি করা যাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ট্রান্সমিশন এবং রিসিপশন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের এন্টেনা; ওয়াকিটকি সেট, রিপিটার, বুস্টার; আইওটি ডিভাইস (সেন্সর ভিত্তিক, সিম ভিত্তিক ও সিমবিহীন); আইএসএম ব্যান্ডে ব্যবহৃত টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস; সুইস, রাউটার, ফায়ারওয়াল, মাল্টিপ্লেক্সার ইত্যাদি নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট; টেলিকম ডিভাইস সংক্রান্ত ব্যাটারি, চার্জার, হেডফোন, ব্লুটুথ ডিভাইস ও ব্যবহার্য গেজেট; মেরিটাইম/টেরিস্ট্রিয়াল/স্পেইস কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস এবং টেলিকম নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাপস ভিত্তিক ডিভাইস।
নীতিমালা অনুযায়ী, ডিভাইস তৈরির জন্য উদ্যোক্তাদের বিটিআরসি থেকে তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। ‘এ’ এবং ‘বি’ দুই ক্যাটাগরি সনদ প্রদান করা হবে। প্রথম ক্যাটাগরির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট ব্যতীত টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে সংযোজন ও উৎপাদন করার পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির জন্য। মানসম্মত ডিভাইস তৈরির জন্য অত্যাধুনিক টেস্টিং যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ নিজস্ব টেস্টিং ল্যাব ও প্রয়োজনমতো টেস্টিং সুবিধা থাকতে হবে যাতে উন্নত এবং আন্তর্জাতিক মানের টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে নিজস্ব টেস্টিং ল্যাবের প্রয়োজন নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে তার প্রস্তুতকৃত টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট বেতার যন্ত্রপাতির মান যাচাইয়ের জন্য কমিশন অনুমোদিত এবং নিজস্ব টেস্টিং ল্যাব সমৃদ্ধ যেকোনো একটি ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। চুক্তিবদ্ধ টেস্টিং ল্যাবের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট বেতার যন্ত্রপাতির কারিগরি মান যাচাই করতে হবে। পরবর্তীতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান শর্তপূরণ সাপেক্ষে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার সুযোগ পাবে। তালিকাভুক্তি সনদের মেয়াদ হবে দশ বছর এবং প্রতি দশ বছর পর পর নবায়ন করতে হবে। প্রথম ক্যাটাগরির জন্য তালিকাভুক্তি ফি ১৫ লাখ টাকা এবং বি ক্যাটাগরির জন্য ১০ লাখ টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরির জন্য নবায়ন ফি সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং বি ক্যাটাগরির জন্য নবায়ন ফি পাঁচ লাখ টাকা।
নীতিমালা অনুযায়ী, কারখানাগুলোতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকতে হবে। সনদ প্রাপ্তির পর কারখানার ই-বর্জ্য সংগ্রহের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রিসাইক্লেলিং বা ধ্বংস করার পূর্ব পর্যন্ত কারখানায় পরিবেশ সম্মত ব্যবস্থা সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের বিক্রয়োত্তর সেবার মান নিশ্চিত করতে ঢাকায় কমপক্ষে তিনটি এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে কমপক্ষে দুটি করে এবং দেশের সকল জেলা শহরে একটি করে সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালেকশন পয়েন্ট স্থাপন করতে হবে যাতে কোনোভাবেই গ্রাহকসেবা বিঘ্নিত না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *