মেট্রোরেলে ভাঙা পড়বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের

image_pdfimage_print

নকশা অনুযায়ী মেট্রোরেল ছিল উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত (২০ কিলোমিটার)। পরে এর দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার বাড়ানোর ফলে ভাঙা পড়বে ঐহিত্যবাহী কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। এ জন্য স্টেশনটি ভেঙে আরও আধুনিক ও মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল লাইনের স্টেশন কিছুটা উত্তর দিকে এগিয়ে নিয়ে নতুন আইকনিক স্টেশন নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বর্তমান স্টেশনসংলগ্ন জায়গায় মেট্রোরেল স্টেশন আর কমলাপুর স্টেশন আরেকটু উত্তর দিকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, নতুন স্টেশনটি হবে বর্তমান স্টেশনের অবিকল রূপে। এতে অত্যাধুনিক সুবিধা যেমন যুক্ত হবে তেমনি কাঠামো রাখা হবে বর্তমান স্টেশনের মতো। তবে স্টেশন ভাঙার আগে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। এজন্য মেট্রোরেল ও রেল কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এন ছিদ্দিক জানান, তারা বেশকয়েকটি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর মূখ সচিবের নেতৃত্বে বৈঠকে কমলাপুর স্টেশন ভেঙে উত্তরদিকে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এক্ষেত্রে মেট্রোরেল কমলাপুরে বর্তমান স্টেশন অংশে বেশকিছু জায়গা পাবে।
মেট্রোরেল প্রথম রুট ছিল উত্তরা থেকে মতিঝিল ২০ কিলোমিটার। পরে মেট্রোরেল রুট মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত আরও ১ কিলোমিটার বাড়িয়ে শেষ স্টেশন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই বাড়তি অংশের জন্য এখন কমলাপুর রেলস্টেশন স্থাপনা ভাঙতে হবে। আবার না ভাঙলে মেট্রোরেল রুটের নিচে ঢাকা পড়বে কমলাপুর রেলওয়ের আইকনিক এই স্টেশন। এজন্য মেট্রোরেল ও কমলাপুর রেলওয়ে যৌথভাবে নতুন স্টেশন নির্মাণে সম্মত হয়।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে মাল্ডিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজিমা করপোরেশনের নেতৃত্বে একটি সাব ওয়ার্কিং গ্রুপ। ডিএমটিসিএলের বর্ধিত মেট্রোরেল লাইনের নকশায় আপত্তি জানিয়েছিল কাজিমা করপোরেশনও। পরে মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত নকশা ও মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাবের প্রস্তাবিত নকশায় কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন একটি নকশা প্রস্তাব করেছে কাজিমা করপোরেশন। তারা প্রস্তাবে বলেছে, বিদ্যমান রেলওয়ে স্টেশন বিল্ডিংটি উত্তরপাশে সরিয়ে দিতে হবে। স্টেশন বিল্ডিং সরিয়ে দেওয়ার ফলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে, মেট্রো ট্রেনের লাইন বদলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেখানে গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২১ সালের মধ্যেই দেশের প্রথম মেট্রোরেলের কাজ শেষ করতে চায় সরকার। এজন্য মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মেট্রোরেলের জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনটি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেলে আনুষাঙ্গিক কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
এদিকে কবে নাগাদ কমলাপুর স্টেশন ভাঙা হবে এবং তখন কীভাবে ট্রেন ও যাত্রী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি কোনো কর্তৃপক্ষ। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ামাত্র এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বসবেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *