মিশ্রভাবে প্রতিপালন হচ্ছে, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস,’ স্বাস্থ্যবিধি নেই, গণপরিবহণ-বাজার, বিপনী-বিতান গুলোতে

image_pdfimage_print

রাজধানীর হাসপাতাল গুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ও স্বজন মাস্ক ব্যবহার করছে না। অনেকের পকেটে মাস্ক থাকলেও ব্যবহার করছে না। আবার কেউ কেউ ঝুলিয়ে রাখছে থুতনিতে। কারো কারো সঙ্গে মাস্কই নেই। গণপরিবহণ, বাজার, বিপনী-বিতানগুলোর চিত্র আরো ভয়ঙ্কর। বেড়েছে গণজমায়েত, থেমে নেই বিয়ে জন্মদিনসহ নানা সামজিক অনুষ্ঠান।
দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে অফিস-আদালতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস প্রতিপালন হলেও অনেক অঞ্চলে ঢিলেঢালাভাবে পালন হচ্ছে। মাস্ক না পরেও সার্ভিস পাচ্ছে অনেকে।
করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, যারা মানবে না তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সংক্রমণ ব্যাধি আইন ২০১৮ তে বলা হয়েছে, যদি কেউ অন্য কাউকে এভাবে সংক্রমিত করে তাহলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা যাবে।
তিনি বলেন, এই শাস্তির বিধানটা যেসব দেশে জোরালোভাবে প্রতিস্থাপিত করতে পেরেছে সেখানে কিন্তু ফলাফল ভালো পাওয়া গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহারুল হক বলেন, সঠিক সময়ে, সঠিক বার্তা, সঠিক লোকের কাছে পৌঁছেছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। আপনি মানুষকে সচেতন করেছেন কিন্তু সমাজকে সম্পৃক্ত করছেন কিনা সেটাও আমাদের দেখতে হবে। আমরা যদি সমাজকে সম্পৃক্ত করতে পারতাম তাহলে সমাজের এই লোকজন নিজেরাই মাস্ক পরতে বাধ্য করতো।
তিনি বলেন, যারা মানছে না, তাদের জন্য রাষ্ট্র যন্ত্রগুলোর ব্যবহার করে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যতই প্রস্তুতি নেই না কেনো; আমাদের মনে রাখতে হবে ভ্যাকসিন আসলেও কোভিড নিয়ে থাকতে হবে।
জাপান বাংলাদেশে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরদার এ নাইম বলেন, আপত দৃষ্টিতে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ডুকছি বলেই মনে হচ্ছে। আমরা জুলাইয়ে যে পিক দেখেছিলাম সেখান থেকে নামতে নামতে অনেকটায় নিচে নেমে এসে আবার কিছুটা উপরে দিকে যাচ্ছি। অনেক রোগীরা এখন টেস্টের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। টেস্ট বাড়লে প্রকৃত বিষয়টি জানতে পারতাম। সেটা কিন্তু এখন হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (এমআইএস) পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ আমরা এ বার্তাটি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি রয়েছে, এছাড়া উপজেলায় যে কমিটি রয়েছে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাস্ক পরা ও নো মাস্ক নো সার্ভিস বাস্তবায়ন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *