মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন নিপীড়ন-হত্যার অভিযোগ, বরখাস্ত ১৪

image_pdfimage_print

মার্কিন সেনাবাহিনীতে হত্যা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানিসহ সহিংসতার কারণে টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটির দুই কর্মকর্তাসহ ১৪ সেনা সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চলতি বছর ওই ক্যাম্পে ভেনেসা গিলেন নামে এক নারী সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্তের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
গতকাল মঙ্গলবার এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। খবরে বলা হয়, ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে হত্যা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানিসহ সহিংসতার বিষয়ে গতকালই মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। মামলায় ঘাঁটির প্রধান জেনারেল স্কট এফল্যান্ড এবং জেফারি ব্রডওয়াটার অন্তর্ভুক্ত আছেন।
মার্কিন সেনা সচিব রায়ান ম্যাকার্থি এ ব্যাপারে বলেন, ‘ফোর্ট হুডে মার্কিন সেনা সদস্য ভেনেসা গিলেনের হত্যাকাণ্ড আমাদের হতবাক করেছে। সেখানকার আরও গভীর সমস্যাগুলোও আমাদের নজরে এসেছে। এটা আমাদের কার্যক্রম, নীতিমালা এবং আমাদের নিজেদের সমালোচনা করতে বাধ্য করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফোর্ট হুডে নেতৃত্ব নিয়ে ঝামেলাগুলো এসব সমস্যার কারণ।’ সেনাবাহিনীর নিখোঁজ সদস্যদের জন্য নতুন নীতিমালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
চলতি বছর জুনের শেষাংশে মার্কিন নারী সেনা সদস্য ভেনেসা গিলেনের মরদেহ উদ্ধার হয়। এর আগে প্রায় দুমাস তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তকারীরা বলছেন, তাকে ফোর্ট হুডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ভেনেসার মৃত্যুতে অ্যারন রবিনসন নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হয়। গত ১ জুলাই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি আত্মহত্যা করেন।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, ভেনেসা গিলেনের পরিবারের অভিযোগ, অ্যারন রবিনসন তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিনসনের বিরুদ্ধে ভেনেসাকে যৌন নির্যাতন বা লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে অভিযোগ করেছেন, তার কোনো প্রতিবেদনে নেই। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

ভেনেসার বোন বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমার বোন একজন মানবিক মানুষ এবং আমি তার হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সেনাবাহিনী এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার পর দেখা যায়, গত এক বছরে ফোর্ট হুডে নিযুক্ত ২৫ সেনা আত্মহত্যা, হত্যা বা দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘একজন জ্যেষ্ঠ নেতার উপর যখন তার অধীনস্তরা বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তখন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়াই উপযুক্ত এবং প্রয়োজনীয়।
মার্কিন সেনা সচিব রায়ান ম্যাকার্থি যে নীতিমালা গ্রহণ করেছেন, সেখানে সেনা কামন্ডারদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ বা অনুপস্থিত সদস্যদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। ওই সেনাদের শনাক্তের পর তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *