ভারতে কৃষি আইন নিয়ে অচলাবস্থা দূর কমিটি থেকে সরে দাঁড়ালেন ভুপিন্দর সিং মান

image_pdfimage_print

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে তৈরি তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের যে আন্দোলন চলছে তার সমাধানের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট যে কমিটি তৈরি করে দিয়েছিল তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক নেতা ভুপিন্দর সিং মান। এরফলে চলমান কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থা চলছে তা দূর করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কৃষক নেতা ভুপিন্দর সিং মান বলেন, ‘আমি নিজে একজন কৃষক ও কৃষক ইউনিয়নের নেতা। কৃষকদের ভাবাবেগ বর্তমানে সারা দেশের আম জনতার আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। পঞ্জাবের জন্য এবং দেশের কৃষকদের স্বার্থে আমি যেকোনও পদ ছাড়তে পারি। আমি কমিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।’
সুপ্রিম কোর্ট ৪ সদস্যের কমিটিতে ওই সংগঠনেরই বর্তমান প্রধান ভুপিন্দর সিং মানকে রেখেছিল। কিন্তু সেই পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় ওই কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হল বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লি সংলগ্ন বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্তে ধর্না-অবস্থানে আন্দোলন করছেন কৃষকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কৃষক নেতাদের ৮ দফা বৈঠকের পরেও কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি।কৃষকদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের তোইর করা তিনটি কৃষি আইনই বাতিল করতে হবে। কিন্তু সরকার তাতে রাজি নয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অনেক মামলাও হয়েছে।
সেগুলো একত্রিত করে শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সাম্প্রতিক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি তিনটি কৃষি আইন স্থগিত রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কিন্তু সেই কমিটি থেকেই আজ কৃষক নেতা ভুপিন্দর সিং মান নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় অচলাবস্থা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি বলেছেন, সরকার ওই আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে।
‘সরকার কেবল কৃষকদের উপেক্ষা করছে না, তাদের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রও করছে। তারা তাদের ২/৩ জন বন্ধুর উপকারের জন্য কৃষকদের ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তারা কৃষকের জমি দখল করতে এবং উৎপাদিত ফসল তাদের বন্ধুদের কাছে দিতে চাচ্ছে বলেও রাহুল গান্ধী এমপি আজ মন্তব্য করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *