‘ভর্তির হার শূন্যের কোঠায়’, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান সম্ভব: বাকসকপ চেয়ারম্যান

image_pdfimage_print

রাজধানীর একাধিক কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠাতা জানান, আলোচিত কিন্ডারগার্টেনগুলোতে কিছুটা ভর্তি থাকলেও সামগ্রিকভাবে ভর্তির হার শূন্যের কোঠায়। গত বছর ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও করোনা পরিস্থিতিতে ক্লাস পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন এবং আনুষঙ্গিক খরচ দিতে না পারায় ঋণের দায়ে অনেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এবার শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।
লতিফ আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেন, এখনো ভর্তি হতে কোন শিক্ষার্থী আসছে না। অভিভাবকরা চিন্তা করছে, স্কুল খুললে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাবে। বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত আমরা ভর্তির সময়সীমা দিতে পারি না।
লিটল ফ্লাওয়ারস প্রিপারেটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, সকল শ্রেণিতে এ পর্যন্ত মোট ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদ (বাকসকপ) চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, কিন্ডারগার্টেনে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিটি ক্লাস পরিচালনা করা হয়। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তাদের পাঠদান সম্ভব। প্রয়োজনে শিফট বাড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুরা শিক্ষা থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ইন্সপায়ার গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ নাজমুন নাহার বলেন, নিজস্ব ভবনে প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক শিক্ষিকা কর্মচারী কর্মকতাদেরদের বেতন, গ্যাস, পানি বিদ্যুৎসহ যাবতীয় বিল পরিশোধ করতে পারি নি। ভাড়া দিতে হলে প্রতিষ্ঠান আরও আগেই বন্ধ হতো। দেশের ৯৯ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন ভাড়া বাসায় পরিচালিত। তাদের মানবেতর জীবন যাপন থেকে মুক্তি দিতে পরিষদের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে স্কুল খোলার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এর আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রাথমিক শিক্ষাক্রম সদস্য ড. রিয়াজুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে পাঠদানের বিকল্প নেই। ফলে অ্যাসাইনমেন্ট না দিয়ে শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্লাস্টারে তাদের লেখাপড়ার সঙ্গে যুক্ত রাখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *