বিজয়ের দিনে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ

image_pdfimage_print

আজ মহান বিজয় দিবস। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এইদিনে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ।
স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আহমদ চৌধুরী।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় শহীদদের প্রতি সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে এবং তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর পরপরই জনসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এবার করোনাভাইরাসের কারণে স্মৃতিসৌধের পরিস্থিতি ভিন্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেই আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা লোকজনকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে ভেতরে ঢোকানো হয়। ভেতরে ঢোকার পর বেশিক্ষণ অবস্থান করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বেলা যত গড়ায় স্মৃতিসৌধ এলাকায় তত ভিড়ও বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া নয়টার দিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেলা ১১টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি ছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফোরাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি, রেড ক্রিসেন্ট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গেছে।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সময় বিজয়ের চেতনায় উদ্বেলিত হয়। অনেকে গাইতে থাকেন জাতীয় সংগীত। মাথায় লাল সবুজের পতাকা বেঁধে ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানান অনেকেই। স্মৃতিসৌধের চারপাশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা গেছে লাল-সবুজ পতাকা ও লাল-সবুজ রঙের উত্তরীয়। কেউ কেউ লাল-সবুজ রঙের মাস্ক পরেও হাজির হয়েছেন স্মৃতিসৌধ এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *