পৌনে তিন লাখেরও বেশি মামলার বিপরীতে আটকে আছে আড়াই লাখ কোটি টাকা

image_pdfimage_print

চার ক্যাটাগরির মামলার বিপরীতে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন আদালতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের রিট মামলা, অর্থঋণ মামলা, সার্টিফিকেট মামলা এবং দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলার সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪টি। এসব মামলার বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চার ক্যাটাগরির মামলার মধ্যে সার্টিফিকেট মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৬২৬টি। তবে মামলার সংখ্যা সর্বোচ্চ হলেও এর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ সবচেয়ে কম। মাত্র ২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।
অন্যান্যের মধ্যে অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬০ হাজার ৯৭৩টি। এসব মামলার বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা।
রিট মামলা রয়েছে ৫ হাজার। এর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলা রয়েছে ৫৮ হাজার ৪৯৫টি, এসব মামলার বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৮৪ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।
জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল) মামলার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৭৮২টি। এর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৬ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে রিট ও অর্থঋণ মামলার সংখ্যা ২০ হাজার ১৩৬টি। এর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৬৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এই ছয় ব্যাংকের সার্টিফিকেট, দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলা ৫৯ হাজার ৬৪৬টি। এতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৪০ হাজার ২২ কোটি টাকা।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি বিশেষায়িত ব্যাংক (বিকেবি, রাকাব, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক) এবং ৭টি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (বিএইচবিএফসি, আইসিবি, বিএসইসি, এসবিসি, জেবিসি, আইডিআরএ ও এমআরএ) মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মামলার সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৭টি। এগুলোর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ৩৮টি ব্যাংকের মামলার সংখ্যা ৬৪ হাজার ৮৬০টি। এর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।
এছাড়া ২৮টি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলার সংখ্যা ১৭ হাজার ২৩৩টি। এগুলোর বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *