পুলিশে দুর্নীতিবাজদের কোনো জায়গা নেই: আইজিপি

image_pdfimage_print

দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোনও পুলিশ সদস্য অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের সাথে জড়িত থাকতে পারবে না। বাংলাদেশ পুলিশে দুর্নীতিবাজদের কোনো জায়গা নেই। পুলিশ হবে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত বলে জানিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।
মঙ্গলবার রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত এসআই, সার্জেন্ট ও ইন্সপেক্টরদের কল্যাণ ও জনসাধারণের সাথে আচরণবিধি সম্পর্কিত ধারাবাহিক মতবিনিময়ের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
আইজিপি বলেন, সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণকে আইনি সেবা দিয়ে ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে পুলিশের চাকরিটা গৌরবের সাথে করতে হবে। চাকরিটাকে ভালোবেসে নিজে সৎ হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সহকর্মীকে সৎ হতে উৎসাহিত করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে একজন ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে কাজ করলে দুর্নীতিসহ অন্যান্য অপরাধ কমে যাবে।
আইজিপি বলেন, প্রতিটি ফোর্স ও অফিসারের কল্যাণ আমরা নিশ্চিত করতে চাই। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে এই সার্ভিসে দেখতে চাই না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশও বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে।
পুলিশ প্রধান বলেন, পুলিশ সদস্যদের মনোজগতের পরিবর্তন দরকার, দরকার তাদের আচরণের পরিবর্তন। মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করা থেকে সচেতনভাবে বেরিয়ে আসতে হবে। তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। মানুষের ওপর শারীরিক শক্তি প্রয়োগ না করে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করলে, তাদের উপকার করলে মানুষ তা মনে রাখে, প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করে। বর্তমান করোনাকালে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে। পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পুলিশের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে।
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ন্যায় ও ন্যায্যভাবে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান করোনাকালে পুলিশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের আরও আধুনিকায়ন করা হবে। দেশের আটটি বিভাগে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পুলিশ মেডিকেল সার্ভিস প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
এর আগে এসআই, সার্জেন্ট ও ইন্সপেক্টরদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন সদস্য আইজিপির কাছে বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাদের মতামত ও সমস্যা তুলে ধরেন।
ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, এসবি প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *