দেশে বাড়ছে বিকৃত যৌন আচরণ

image_pdfimage_print

দেশে বাড়ছে বিকৃত যৌন আচরণ। মনরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ। দ্রুত ও কঠোর বিচার নিশ্চিতের দাবি অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।
গত বৃহস্পতিবার বন্ধুর বাসায় গিয়ে নিহত হন এক তরুণী। ময়নাতদন্তকারি চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে বিকৃত যৌনাচারকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখছেন ।
মর্গে আসা মৃত তরুণীদের মরদেহের সাথে যৌন আচরণের কারণে গেল বছরের ১৯ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ থেকে এক ডোম সহকারীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
এর আগে, গত বছরের ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জ থেকে এক কথিত সাধক শরিফুল ইসলামকে নিজের মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে প্রায় সাড়ে ৩ হজার নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৩১০ জন। আর ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৭। সংস্থাটি বলছে, খুব মারাত্মক কিছু না ঘটলে বেশিরভাগ সময় পরিবারের সদস্যরাই বিষয়টি চেপে যায়। ফলে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তা মোট ঘটনার একটি অংশ মাত্র।
ঢাকা মানসিক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অধঃপতনের কারণে বাড়ছে এমন ঘটনা। এসব ঘটনার পেছনে পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং মাদকাসক্তিকেও দায়ী করেছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান খন্দকার ফারজানা রহমান জানান, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, অপরাধ করেও অপরাধীর কঠোর শাস্তি না হওয়া, আইনের দুর্বলতা এরকম ঘটনা ঘটাতে অপরাধিদের উৎসাহিত করে৷
সুপ্রিম কোর্টের আইরজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা জানান, অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগ থাকায় সব কিছু প্রমাণ করে বিচারের আওতায় আনতে সময় লাগে।
এ সকল অপরাধের জন্য আইনের মাধ্যমে অপরাধীর দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *