দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও কারাগারে মাদকাসক্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড স্থাপনের উদ্যোগ

image_pdfimage_print

বিদেশগামী কর্মীদের মাদক অপরাধ ও মাদকাসক্তির কফুল সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ।
জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে সুরক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মুহাম্মদ আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ সংক্রান্ত একটি রেজ্যুলেশনে স্বাক্ষর করেন। এরও আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভা হয়। ওই সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, পরিকল্পনা মন্ত্রী আব্দুল মান্নান, শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, মানসের সভাপতি ডা. অরুপ রতন চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ডিএনসি’র ডিজি আহসানুল জব্বার বলেন, সম্প্রতি বিদেশগামী ও বিদেশে অবস্থানরত কতিপয় বাংলাদেশি কর্মী মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে বর্হিবিশে^ দেশের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব বলেন, মাদক পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য বিদেশ থেকে লোক ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এতে শ্রম বাজার নষ্ট হচ্ছে। মাদক সঙ্গে নিয়ে যেন কেউ বিদেশ যেতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীরা নিজ নিজ মালামাল নিজ দায়িত্বে প্যাকিং করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর সভার সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিদেশগামীদের মধ্যে মাদকবিরোধী প্রচারণা বাড়াতে হবে। জনশক্তি রপ্তানীকারকদের মাধ্যমে এবং বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণকালে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিতে হবে।সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশগামী কর্মীদের মাদক অপরাধ ও মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতন করার ব্যবস্থা করবে। আর বিদেশে অবস্থারনরত কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস মাদক অপরাধ ও মাদকাসক্তির কুফলের বিষয়ে সচেতন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ডিএনসি’র একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
একই সভায় ডিএনসি’র মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় চার লাখ মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বলেন, মাদক মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য যেখানে মামলা বেশি রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ে মামলাগুলো বিচারের জন্য দেওয়া হবে অথবা আদালত নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
ডিএনসি বলছে, মাদক মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রতি জেলায় বিশেষ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত গঠনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মাদকসক্তদের পচিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ: জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় ডিএনসি মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার বলেন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে ডিএনসি। ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসেরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১৮ জন মাদকাসক্তকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ডিএনসি’র ডিজি বলেন, অধিদপ্তরের আওতাধীন ঢাকায় ১২৪ শয্যার কেন্দ্রীয় এবং রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে ২৫ শয্যা বিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। সিলেট ও বরিশালে ২৫ শয্যা বিশিষ্ট নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। ঢাকা ছাড়া ৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নিরাময় ও পূনর্বাসন কেন্দ্রে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৪৪টি জেলায় বেসকারি পর্যায়ে ৩৫০টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও কারাগারে মাদকাসক্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড স্থাপনের জন্য অধিদপ্তরের থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসি’র চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিভাগের সহাকারী পরিচালক রাহুল সেন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চিকিৎসাপ্রাপ্ত মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে যুব উন্নয়ন, অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে এমওইউ করার বিষয়ে কাজ চলছে। এছাড়া ‘বেসরকারি মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বসান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করে সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে আইন মন্ত্রণালয় থেকে কিছু অবজারভেশন দিয়ে আবারও সুরক্ষা সেবা বিভাগ হয়ে ডিএনসিতে পাঠানো হয়। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সংশোধন করে আবারও এটি সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতাল ও কারাগারগুলোতে মাদকাসক্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *