দীপন হত্যা মামলায় চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড

image_pdfimage_print

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালত। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুজিবুর রহমান রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম সারোয়ার জাকির জানান, রাষ্ট্রপক্ষ দীপন হত্যা মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে আট আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান, মামলায় ২৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত- এমন কথা উল্লেখ করেননি কোনো সাক্ষী। তাই রায়ে আসামিরা খালাস পাবেন বলে মনে করছি।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের নিজ অফিসে খুন হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। সেদিন বিকালে তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান। চার্জশিটে আটজনকে অভিযুক্ত ও ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এর পর ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুজিবুর রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আইটি এক্সপার্ট খায়রুল ইসলাম, সদস্য মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, মাইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান ও মো. আব্দুস সবুর ওরফে আবদুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে সাজু ওরফে সাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *