জনবল ও তথ্য সুরক্ষার দুর্বলতায় সাইবার ঝুঁকিতে ব্যাংকখাত

image_pdfimage_print

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার আশঙ্কা থাকলেও এখনো তথ্য সংরক্ষণের ঝুঁকিতেই রয়েছে ৩৬ শতাংশ ব্যাংক। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।
এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা ভার্চ্যুয়াল ব্যাংকিং-এ পিছিয়ে পড়ার কথা বললেও, ব্যাংকাররা বলছেন, সক্ষমতা অর্জনে অনেকটাই এগিয়েছে এ খাত। আর প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোরদারে কম ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।
গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৮০ শতাংশ সাইবার হামলাই হয়ে থাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। সবচেয়ে বেশি সাইবার হামলা হয় আর্থিক সেবা খাতে। খাতওয়ারি তা ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু এটিএম কার্ডের দুর্বলতার কারণেই ঘটেছে অধিকাংশ সাইবার হামলা।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)’র ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে, তথ্য সংরক্ষণের ঝুঁকিতেই রয়েছে ৩৬ শতাংশ ব্যাংক।
সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংকগুলোর গ্লোবাল ফরেন এক্সচেঞ্জ (জিএফএক্স) এবং মধ্যম ঝুঁকিতে ১২ শতাংশ। আর আধুনিকায়নের পথে ৩২ শতাংশ ব্যাংক।
এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)’র সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের দাবি, আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এগিয়েছে ব্যাংকগুলো।
তিনি বলেন, অনেক ব্যাংকই ফরেন এক্সচেঞ্জ ফায়ারওয়াল (নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার) স্থাপন করে ফেলেছে। আগামীতে এমন আরও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষা করতে। সর্বোচ্চ সম্ভাব্য উপায়ে আমরা এই কাজগুলো করছি।
বিআইবিএমের গবেষণা বলছে, ব্যাংকিং খাতে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ (আইটি) জনবল রয়েছে মাত্র ৪ হাজার। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইটি খাতের আধুনিকায়নে অর্থ সংকুলান না থাকায় ভার্চ্যুয়াল ব্যাংকিং এ যেতে অনেক পিছিয়ে আছে এ খাত।
ব্যাংকিং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মো. ফয়সাল হাসান বলেন, যেহেতু সারাবিশ্ব এখন ভার্চুয়াল ব্যাংকিংয়ের দিকে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে আমাদেরও পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে।
আগামীর ভার্চুয়াল ব্যাংকিংয়ে যেতে নতুন জনবল নিয়োগের চেয়ে ব্যাংকগুলো বর্তমান কর্মীদের মধ্যেই সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি জোর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, যে জনবল এখন আছে এখানে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ালে সাইবার হামলা ঠেকাতে ও ভার্চুয়াল ব্যাংকিংয়ে যেতে আমরা এগিয়ে থাকবো।
সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্বে বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো ২০১৯ সালে সাইবার নিরাপত্তায় ব্যয় করেছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে কম ব্যয়ে দেশিয় প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট মেধাকে ব্যবহারের পরামর্শ প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদের।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিদেশি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবহারকে আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। তিনি সময় সংবাদকে বলেন, শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয় বিদেশি সফটওয়্যারের পেছনে।
এতে দেখা যায়, একেকটি ব্যাংকেরই খরচ হচ্ছে দুই থেকে তিন’শ কোটি টাকা। আমি এই খরচের বিপক্ষে। আমাদেরই তো যথেষ্ট (তথ্য প্রযুক্তির) মেধাবীরা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই তো আমরা কাজে লাগতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *