চীন থেকে ঋণ নিয়ে সৌদির ধার শোধ করলো পাকিস্তান

image_pdfimage_print

পাকিস্তান দেড় বছর আগে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছিল সৌদি আরবের কাছে থেকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি পাকিস্তানের ইমরান খানের সরকার। এখন আন্তর্জাতিক ঋণ খেলাপির দায় এড়াতে, এক বিলিয়ন ডলার চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবকে দিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস এবং দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন থেকে অনুবাদ করেছেন
সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের দুই বিলিয়ন ডলারের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার আজ সোমবার শোধ করার কথা। বাকি এক বিলিয়ন ডলার আগামী জানুয়ারিতে দেওয়া হবে।
চীন পাকিস্তানকে এই ঋণ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ বা সেফ তহবিল থেকে দিচ্ছে না। এমনকি, এটি বাণিজ্যিক ঋণ হিসেবেও দেওয়া হচ্ছে না।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে আরও জানিয়েছে— ২০১১ সালের কারেন্সি সোয়াপ অ্যাগ্রিমেন্টের (সিএসএ) ভিত্তিতে চীন পাকিস্তানকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ইউয়ান বা দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ হিসেবে দিবে।
এর ফলে পাকিস্তানকে মোট ২০ বিলিয়ন ইউয়ান বা সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সুবিধা চীনকে দিতে হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ৫৭ মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসি কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখছে না— এমন অভিযোগ নিয়ে ২০১৮ সালের আগস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছিলেন, যদি সৌদি আরব কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ওআইসির বৈঠক না ডাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীরিদের প্রতি সহানুভূতিশীল মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে আলাদা বৈঠক ডাকবেন।
কুরেশির এই বক্তব্যকে ঘিরে পাকিস্তান দীর্ঘ দিনের বন্ধুরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক তিক্ততায় জড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, কুরেশির এমন বক্তব্যকে সৌদি নেতৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশটি।
পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত হয় যে, সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি তার তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করতে চাপ দেয়। এছাড়া, সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাকিতে তেল কেনার সুযোগও বন্ধ করে দেয়।
এমনতাবস্থায় সৌদি আরব তিন বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে পাকিস্তানকে এক বিলিয়ন ডলার গত জুলাইয়ে শোধ করতে বাধ্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *