চাঁদপুরের একটি মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা !

image_pdfimage_print

চাঁদপুর সদর উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামে অবস্থিত শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী একটি দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া আরাবিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম ও নাজিম তালিমাতের সীমাহীন দূর্নীতি ও বিভিন্ন শিক্ষকদের বিনা নোটিশে অব্যাহতির প্রদানের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করলে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এমদাদিয়া মাদ্রাসার একজন স্বনামধন্য শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, দীর্ঘদিন যাবৎ মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম মুফতি জাফর আহমদ সাহেব বিভিন্ন রকম দুর্নীতি করে আসছিলেন। প্রায়ই মাদরাসার বোর্ডিং এর নামে মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের অনুদান আসতো, কখনো গরু খাসি, মুরগি ইত্যাদি অনুদান হিসেবে আসতো। কিন্তু সেগুলো দিয়ে মাদরাসার বোডিং এর উন্নত খাবার দেয়ার পরিবর্তে সেগুলো মুহতামিমের বাড়িতে চলে যেত।

তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার মুহতামিম ও নাজিমের তালিমাতের জন্য উন্নত খাবার প্রস্তুত করা হলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রদের জন্য নিম্নমানের খাবার বোর্ডিং থেকে সরবরাহ করা হয়।

মাদ্রাসা এলাকায় অবস্থানরত অত্র মাদ্রাসার এক সাবেক ছাত্র মাওলানা নাজিম উদ্দিন ছদ্মনাম জানান যে, মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি জাফর আহমদ প্রায়ই বিভিন্ন শিক্ষকদেরকে ছাত্রদের সামনেই ধমক দিতেন ও কটু কথা বলতেন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে তিনি অনেক শিক্ষকদের বিনা কারণে বহিষ্কার করেছেন। তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার এক শিক্ষককে শুধু এই কারণে বহিষ্কার করা হয় যে তিনি মুহতামিম সাহেবের মেয়ে বিয়ে করতে রাজি হননি। অথচ ওই শিক্ষক মুহতামিমের খুবই আস্থাভাজন ছিলেন। ওই শিক্ষককে বিদায় দেয়ার পরপরই নিজের মেয়ে বিয়ে দিয়ে মেয়ের জামাতা মুফতি মাসুম বিল্লাহ কে মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়ে আসেন। অতঃপর তাকে মাদ্রাসা মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেন এবং মাদ্রাসায় সাধারণ শিক্ষক থেকে তার পদোন্নতি করে তাকে নাজেমে তা’লীমাত (শিক্ষা সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেন।

এলাকার এক বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বী জানান যে, এলাকার এক স্বনামধন্য আলেমেদ্বীন হাফেজ মাওলানা মনসুরুল হক সাহেব যিনি দীর্ঘ ২০ বছর যাবত অত্র প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে অধ্যাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাকে বিভিন্ন সময়ে চাপ প্রয়োগ করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি ও তার বিরুদ্ধে কোনো দোষ আনতে না পারায় তাকে বের করতে পারছিলেন না। ফলে তাকে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করে রাখছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি নিয়ে চলে যান। তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার আরেকজন স্বনামধন্য হাফেজ সাহেব যার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতন বকেয়া ছিল তাকে বিনা কারণে শুধুমাত্র নামমাত্র ৫০০০ টাকা বেতন দিয়ে বহিষ্কার করে দেন। এর পরপরই ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলন করতে শুরু করলে তাদের দাবি-দাওয়া কে গুরুত্ব না দিয়ে মুহতামিম মাদ্রাসার কমিটির সহযোগিতায় প্রশাসনকে খবর দিয়ে মাদ্রাসাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

এলাকার এক সম্মানিত আলেমেদ্বীন মাওলানা বেলাল হোসাইন আমাদেরকে জানান যে, মুহতামিমের স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষকদের সাথে মুহতামিমের অসদ্ব্যবহার ও বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ থাকার কারণে মাদ্রাসায় এত এত যোগ্যতা সম্পন্ন ওস্তাদ থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার পড়ালেখা দিন দিন নিম্নগামী-ই হচ্ছিল।

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট এলাকার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে মুফতি জাফর আহমদ ও মুফতি মাসুম বিল্লাহ এ জামাই শশুর ও কমিটির লোকেরা মিলে মাদ্রাসাকে পুঁজি করে নিজেদের পকেট ভারি করলেও মাদ্রাসাকে দিনদিন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাদ্রাসার পড়ালেখার ব্যাপারে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই।

এলাকাবাসী ও এলাকার তৌহিদী জনতা অসাধারণ দ্বীনদার মানুষ এলাকার আলেম-উলামাদের দাবি মাদ্রাসাটি দ্রুত খুলে দিয়ে এলাকার আলেম উলামা দ্বীনদার মানুষদের সমন্বয়ে মাদ্রাসার মজলিসে শুরা ও মজলিসে ইলমী প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুহতামিম ও নাজেমে তা’লীমাত এর বিষয়ে তদন্ত করত: দোষী সাব্যস্ত হলে তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মজলিসে শুরা ও মজলিসে ইলমি এর মাধ্যমে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম নাজেমে তা’লীমাত নিয়োগ করতে হবে। মাদ্রাসার পড়াশোনার মান আরও উন্নত করতে হবে। মুহতামিম কর্তৃক অন্যান্য শিক্ষকদের যত্রতত্র হেনস্তা করা যাবে না। সকল ছাত্র ও উস্তাদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মুহতামিমের স্বেচ্ছাচারিতায় মাদ্রাসা থেকে বাধ্য হয়ে চলে যাওয়া ও বহিষ্কার কৃত উস্তাদদের ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদরাসার বোর্ডিং এর খাবারের মান আরও উন্নত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *