চলচ্চিত্রে চরিত্রশিল্পীর সংকট এখন তীব্র

image_pdfimage_print

পরিচালক জয় সরকার নতুন ছবি মতি বানুর জন্য চরিত্রশিল্পী খুঁজছেন। তিনি অত্যন্ত সতর্কভাবেই চলচ্চিত্রের আনাচে-কানাচে চোখ বুলিয়েছেন। কিন্তু কাউকে পেলেন না। অনেকটা নিরুপায় হয়ে মিডিয়ার দিকে হাত বাড়িয়েছেন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ২০১৯ সালের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২৬টি শাখায় দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ২৬টি পুরস্কারের ২৩টিই পেয়েছেন মিডিয়া ব্যাকগ্রাউন্ডের কলাকুশলী ও শিল্পীরা। তিনটি পেয়েছে চলচ্চিত্র ব্যাকগ্রাউন্ডের কলাকুশলীরা। কিন্তু চলচ্চিত্রের লোকজন এই নিয়ে আক্ষেপ করলেও জুরি বোর্ড সদস্য শাহ আলম কিরণ বলেন, মূলধারার নির্মাতারা এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি।
মূলধারা থেকে মাত্র তিনটি ছবি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পাসওয়ার্ড, মনের মতো মানুষ পাইলাম না এবং আরও একটি ছবি। শাহ আলম কিরণ বলেন, ‘মা চরিত্রের একজন চরিত্রশিল্পীও খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরস্কার দেওয়ার জন্য। আমরা আসলে চরিত্রশিল্পীর সংকটে পড়েছি।’
কোভিড-১৯ মহামারীতে বেশ কয়েকজন চরিত্রশিল্পী মারা গেছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে মারা গেছেন সুজাতা। তার আগে মারা গেছেন সাদেক বাচ্চু। আর যারা রয়েছেন তাদের বয়স অনেক বেশি হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চরিত্রও সৃষ্টি হয় না।
এটিএম শামস্জ্জুামানও এখন অশীতিপর বৃদ্ধে পরিণত হয়েছেন। প্রবীর মিত্র সুস্থতা-অসুস্থতা নিয়ে জীবন যাপন করছেন। আগে ঢাকার চলচ্চিত্রের একটা স্বর্ণযুগ ছিল। তখন নায়ক-নায়িকা, চরিত্রশিল্পীর সংকট ছিল না। ফতেহ লোহানী, খান আতাউর রহমান, নারায়ন চক্রবর্তী, কাজী খালেকের নাম এখনো সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
আনোয়ার হোসেনের নামই হয়ে যায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা। এমন চরিত্রশিল্পী এখন আর নেই। আগে একজন চলচ্চিত্রশিল্পী বললেই একজনকে অনন্য উচ্চতায় দেখা হতো। এখন সেই পরিস্থিতি ও পরিবেশ নেই। এখন কেউ চরিত্রশিল্পী হতে চায় না। সবাই হতে চায় নায়ক বা নায়িকা। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কোনো নির্মাতা নতুন কাউকে সুযোগও দিতে চান না। সবাই চান পরিচিত মুখ। নির্মাতাদের কথা হলো, অচেনা মুখ দেখলে প্রদর্শকরা ছবি প্রদর্শন করতে চান না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *