চট্টগ্রামে শিশু মীম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড

image_pdfimage_print

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণা সময় আদালতে উপস্থিত ছিল সাত আসামি।একজন পলাতক। ২০১৮ সালের ২১শে জানুয়ারি আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনির মমতাজ ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির পাশ থেকে মিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নগরীর আকবর শাহ থানায় মামলা করেন।
মীমের মায়ের সঙ্গে আসামি বিজয়ের মায়ের কী নিয়ে বিরোধ প্রসঙ্গে পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মো. ফারুক উল হক ফারুক উল হক ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি বলেছেন, ‘এক থেকে দেড় মাস আগে মীমের মা রাবেয়া বেগম জিম্মাদার হয়ে বিজয়ের মাকে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেন। টাকা নেওয়ার পর বিজয়ের মা তা পরিশোধ না করায় রাবেয়া ঝামেলায় পড়েন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে বিজয় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে মীমকে একবার নির্যাতনের চেষ্টা করে।’
গত ২১ জানুয়ারি রবিবার রাতে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মীমের (৯ বছর) লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মীমের বাবা-মা এসে লাশটি শনাক্ত করলে পুলিশ লাশের পরিচয় জানতে পারে। মীম স্থানীয় জামাল হোসেন ও রাবেয়া বেগমের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা জামাল কাপড় ধোয়ার কাজ করেন।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরদিন ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি রাতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।
ওই মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। আসামিরা হলো, মো. বেলাল হোসেন ওরফে বিজয় (১৮), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (১৬), মো. হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৬), মো. আকসান মিয়া প্রকাশ হাসান (১৮), মো. সুজন (২০) ও আয়শা মমতাজ মহলের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনু। আসামিদের মধ্যে বিজয় পতেঙ্গা থানাধীন নারিকেল তলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মানিকের ছেলে, রুবেল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা কাদের ভূঁইয়ার ছেলে, লিটন মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি আউটশাহী গ্রামের বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামে ছেলে, হাসান সিলেটের জগন্নাথপুর থানার সোনামঞ্চ এলাকার বাসিন্দা আরজু মিয়ার ছেলে এবং সুজন কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার দৌলখাঁ বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে। তারা সবাই নগরীর আকবর শাহ এলাকায় থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *