“কোভিড-১৯ প্যানডেমিক ক্রাইসিস টু হোপ” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার”

image_pdfimage_print

জাপান সোসাইটি ফর দি প্রমোশন অব সায়েন্স (জেএসপিএস/ঔঝচঝ) পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ, গবেষণা এবং এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্যে বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের স্বনামধন্য বহু বিজ্ঞানী, গবেষক, অধ্যাপকবৃন্দ ঔঝচঝ ফেলো এবং জাপান দূতাবাসের সহযোগিতায় ঔঝচঝ এলামনাই কাজ করছে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ জেএসপিএস এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ১৩ই মার্চ আয়োজিত ১২তম আন্তর্জাতিক সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল কোভিড-১৯ প্যানডেমিক ক্রাইসি টু হোপ।
ঔঝচঝ এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর লুৎফুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে কানাডার মন্ট্রিয়ল থেকে “কি নোট স্পীকার” হিসেবে কোভিড-১৯ প্যানডেমিক ক্রাইসি টু হোপ শীর্ষক উপস্থাপনায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অনুজীব বিজ্ঞানী, বায়োটেক বিষয়ক কানাডার বহুজাতিক কর্পোরেট লালামন্ডের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডঃ শোয়েব সাঈদ। ডঃ শোয়েব নিজেও একজন ঔঝচঝ ফেলো।
সেমিনারের গেস্ট অব অনার বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি তাঁর বক্তব্যে জাপান বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এবং বিভিন প্রোজেক্টে জাপানের সহযোগিতার বিষয়ে উল্ল্যেখ করেন, তিনি ঔঝচঝ এলামনাইয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। সাপ্লাই চেইন জটিলতা কোভিড মহামারিতে কৃষি খাতে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে বলেন। পরিশেষে বাংলাদেশের সাথে জাপানের একসাথে কাজ করে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সেমিনারের বিশেষ অতিথি ব্যাংকক থেকে ঔঝচঝ পরিচালক ডঃ ইয়োশিও ওতানি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কোভিডকালে পেশাগত জটিল পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
সেমিনারের প্রধান অতিথি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শহিদুর রশীদ ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে কোভিড মহামারির তীব্রতা নিয়ে কথা বলেন এবং ভবিষ্যৎ এ ধরণের বিপজনক আরও ভাইরাসের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষির উপর কোভিডের প্রভাবে করণীয় নিয়ে কথা বলেন।
ডঃ শোয়েব তাঁর “কি নোট” উপস্থাপনায় কোভিড সংকটের প্রেক্ষিত, মানবিক বিপর্যয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা, বিপর্যস্ত সিভিল এভিয়েশন, কোভিড টেস্টে আরটিপিসিআর বনাম এন্টিবডি টেস্টের বিভ্রান্তি, ভ্যাকসিন উদ্ভাবন পদ্ধতি, ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ, ভ্যাকসিন রোলআউট, ভ্যারিয়েন্ট সংকট, কোভিড ম্যানার/ভব্যতায় বৈশ্বিক আর জাপান মডেল, ভ্যাকসিন যুগে সংকট সমাধানে সমন্বিত করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখা করেন। ডঃ শোয়েব ভ্যাকসিনেশনের পাশাপাশি কোভিড ম্যানার বা ভব্যতা মানাকে সংকট উত্তরণে সবচেয়ে আশার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওঈউউজ’ই এর বায়োসেফটি প্রধান ডঃ আসাদুল গণি মহামারি নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত সমাধান ভ্যাকসিনেশন নিয়ে উপস্থাপনায় ভ্যাকসিনের ইতিহাস, যুগে যুগে ভ্যাকসিনেশনের সফলতা, জুনোটিক সংক্রমণের বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি কোভিড সংকটে ভ্যাকসিনকেই চূড়ান্ত হোপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আহবান জানান ভ্যাকসিনে আস্থা রাখতে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর আব্দুল করিম উপস্থাপন করেন কৃষি ফসলে কোভিড-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ আর আশা বিষয়ে। কোভিডকালে আমদানী সমস্যা, অর্থনীতি, খাদ্য উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন আর সঠিক মূল্য বজার রাখার সমস্যার কথা উল্ল্যেখ করেন। তিনি এই সংকটে ছাদ বাগান বা আঙ্গিনা বাগানের বৃদ্ধির কথাও উল্ল্যেখ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইয়াহিয়া খন্দকার উপস্থাপন করেন পশু সম্পদ উৎপাদনে কোভিড-১৯ মহামারির বৈশ্বিক প্রভাব আর প্রতিকার কৌশল নিয়ে। কোভিড সময়ে পশু পরিবহণে সংকট, দুধ, ডিম, মাংস পরিবহণ সমস্যা সহ পশু চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার কথা উল্ল্যেখ করেন। তিনি লাইভ ষ্টক সেক্টরে কোভিড সৃষ্ট বিভিন্ন অস্থির অবস্থার কথা উল্ল্যেখ করেন। এই সংকটকালে তিনি নিউনর্মালের নিয়মকানুনে অভ্যস্ত হতে বলেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নওশাদ আলম উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে মৎস্য উৎপাদন বিপণন আর রপ্তানিতে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব নিয়ে। কোভিড সংকটের ফলে সাপ্লাই চেইন জটিলতায় কোথাও কোথাও মাছ হয়ে যাচ্ছে উদ্বৃত্ত, ফলে ঠিকমত দাম পাচ্ছেনা, আবার কোথাও কোথাও সংকট হচ্ছে মাছের। সামগ্রিকভাবে কোভিড সংকটে মৎস্য উৎপাদকরা দাম পাচ্ছে না ঠিকমত।
অধ্যাপক, গবেষক, বিজ্ঞানীদের এই সেমিনারে বক্তব্য রাখেন এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তুহিন শুভ্র রায়। তিনি এসোসিয়েশনের এবং আজকের সেমিনারে উদ্দেশ্য বিষয়ে অবহিত করেন।
সেমিনারের সভাপতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর লুৎফুল হাসানের সভাপতির ভাষণে বলেন সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং সবার সম্মিলিত চেষ্টায় কোভিড সংকট উত্তরণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *