কবি-নির্মাতা টোকন ঠাকুর গ্রেপ্তার : মুক্তি চাইলেন ফারুকী-অমিতাভ

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা টোকন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাঁটাবন এলাকা থেকে নিউমার্কেট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রোববার রাতে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম কাইয়ুম এ তথ্য জানান।

ওসি বলেন, ‘টোকন ঠাকুরের বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। আমরা শুধু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করেছি। এর বাইরে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমাদের জানা নেই।’

কী অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, পরোয়ানায় শুধু মামলার নম্বর, তারিখ ও নথি নম্বর থাকে। বিস্তারিত কিছু থাকে না। এজন্য তার বিরুদ্ধে দায়ের মামলার বিষয়ে জানা নেই। পুলিশ শুধু আদালতের নির্দেশ পালন করেছে এবং সোমবার টোকন ঠাকুরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টোকন ঠাকুর ২০১৩ সালে শহীদুল জহিরের গল্প ‘কাঁটা’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান পান। ৩৫ লাখ সরকারি অনুদানের মধ্যে ১৩ লাখ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তুলে নিলেও ওই চলচ্চিত্রের কোনো কাজ তিনি করেননি। এ কারণে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে টোকন ঠাকুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ওই মামলায় গত ৩ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে টোকন ঠাকুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

এদিকে কবি টোকনের মুক্তি চাইলেন ফারুকী-অমিতাভ। ফারুকী বলেন, ‘ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়ার পরও কত মানুষ রাজার হালে ঘোরে, আর সামান্য কয় লাখ টাকার একটা অনুদানের সিনেমা টাইমলি না দেয়াতে আমার বন্ধু কবি টোকন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হইছে! আমি বলছি না, অনুদানের টাকার ছবি টাইমলি না দেয়া উচিত কাজ! কিন্তু একটা ছবি বানাতে গিয়ে কত রকম ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটতে পারে! তাই আশা করি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভাই-বোনেরা ব্যাপারটা আন্তরিকতার সঙ্গে দেখে একটা সুরাহা করবেন!এবং আদালতও ব্যাপারটা আন্তরিকভাবে দেখবেন যাতে টোকনের জামিন দ্রুত নিশ্চিত হয়! আপাতত এইটুকুই বলার!’

চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘কবি টোকন ঠাকুর ছবিটা নির্মাণ করতে পারছেন না হয়তো অর্থের অভাবে, তা ছাড়া কবি মানুষ সিনেমা নির্মাণের ভঙ্গি হয়তো বুঝতে পারেন নাই, তাই দয়া করে ওনাকে গ্রেপ্তার করে বিপদে না ফেলে, সবাই মিলে ওনার সিনেমাটা শেষ করার চেষ্টা করি। মুক্তি দেয়া হোক আমাদের কবিকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *