ইতিহাসের যে কোনো সময়ের তুলনায় বিশ্বজুড়ে যমজ শিশু জন্মের রেকর্ড, বলছে গবেষণা

image_pdfimage_print

এই প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে যমজ শিশু জন্ম বিষয়ক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্বের ১০০টি দেশে যমজ শিশু জন্মের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এই দেশগুলোতে ৪২জনের মধ্যে একজন যমজ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, যা বছরে ১৬ লাখ যমজ শিশুর সমতুল্য।
একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু যখন স্বাচ্ছন্দ্যে বিভক্ত হয় তখন প্রাকৃতিকভাবে যমজ শিশু জন্মগ্রহণ করে, অথবা বাবা-মা যখন একসঙ্গে দুইটি ডিম নিষিক্ত করেন তখন অভিন্ন যমজ শিশু জন্ম নেয়। কিন্তু বেশিরভাগ যমজই এখন চিকিৎসাগত কারণে জন্মগ্রহণ করছেন। এর পেছনে রয়েছে ডিম্বাশয়ের সক্রিয়তা বাড়ানো, প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি, হরমোনাল ও আইভিএফের মাধ্যমে একই সময়ে গর্ভে ভ্রুণ স্থানান্তরিত হওয়ার মতো চিকিৎসা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান মনদেন বলেন, ‘গত ৪০-৫০ বছরে যমজ সন্তান জন্মের হার ধনী ও উন্নয়নশীল সব দেশেই বৃদ্ধি পেয়েছে।’
গবেষণায় উঠে আসে, গত ৪০ বছরে গড়ে বৈশ্বিক যমজ শিশু জন্মের হার এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অঞ্চল ভিত্তিতে উত্তর আমেরিকায় এই হার ৭১ ভাগ, ইউরোপে ৬০ ভাগ, এশিয়ায় ৩২ ভাগ। দুইটি ভিন্ন ডিম্বানু থেকে জন্ম নেয়া শিশুর হার শীর্ষে আফ্রিকা। দেখা গিয়েছে ৮০ভাগ ভিন্ন ডিম্বানুজাত যমজই আফ্রিকা বা এশিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
ব্রিটিশ ফার্টিলিটি সোসাইটির চেয়ারম্যান রাজ মার্থার বলেন, ‘সন্তান উৎপাদনশীলতার মতো চিকিৎসা বৃদ্ধি এবং বেশি বয়সে নারীদের প্রথম সন্তান গ্রহণের কারণে যমজ শিশু জন্মের হার বাড়ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যমজ সন্তানের বিষয়টি ভালো। কিন্তু এটি গর্ভকালীন অবস্থায় মা ও সন্তানের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এ বিষয়টি এড়ানোই উত্তম। কিভাবে যমজ শিশু জন্মের সম্ভাবনা রোধ করে আইভিএফ পদ্ধতির ব্যবহার করা যায় সেটিই এখন চ্যালেঞ্জ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *