অক্টোবর মাসেও রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিবেদক
সদ্য বিদায়ী অক্টোবর মাসেও রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অক্টোবর মাসে তারা ২১১ কোটি (২ দশমিক ১১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আর গত চার মাসে ( জুলাই-অক্টোবর) প্রবাসীরা প্রায় ৯ বিলিয়ন (৮.৮২৫ মিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। রবিবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে আয় এসেছে ৮৮২ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে আয় এসেছিল ৬১৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের মধ্যে এত প্রবাসী আয় বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকের হাতে প্রচুর তারল্য এসেছে। মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। রেমিট্যান্সের কারণে ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে শ্রমিকদের বাইরেও অনেকে বিদেশ থেকে টাকা (রেমিট্যান্স) আনছেন।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফ্ল্যাট কিনছেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, এই করোনাকালে ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে আগের চেয়ে বেশি বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ওই দেশগুলোর প্রবাসীরা সে দেশে টাকা রেখে এখন কোনও মুনাফা পাচ্ছেন না। লাভের আশায় তারা বাংলাদেশে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এর সঙ্গে ২ শতাংশ প্রণোদনাও পাচ্ছেন। তবে রেমিট্যান্স বাড়ার নেপথ্য কারণ হিসেবে সরকারের দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনাকে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ প্রবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২০ সালে অষ্টম হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার ওয়াশিংটন সদরদপ্তর থেকে কোভিড-১৯ ক্রাইসিস থ্রু মাইগ্রেশন লেন্স শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। রিপোর্টের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী এ বছর করোনার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশের রেমিট্যান্স বাড়বে, যার মধ্যে বাংলাদেশের বাড়বে ৮ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে গত বছরের মতো এবারও ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। সে অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করে কোনও কোনও ব্যাংক আরও ১ শতাংশ বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

মূলত ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণে অপ্রাতিষ্ঠানিক থেকে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় কোভিডের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০২০ সালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আসবে ২০ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, যারা কষ্ট করে অর্থ পাঠিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *